Breaking News

বিটকয়েনের দাম কমছে কেন? বিটকয়েনের দাম কি কখনো জিরো হতে পারে?

 

বিটকয়েনের দাম কেন কমতে শুরু করেছে বিটকয়েনের দাম কি কখনো জিরো হতে পারে
Image source: Canva.com


আজকে আমরা কথা বলব বিটকয়েনের বর্তমান মার্কেট পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই আছেন যারা প্রতিনিয়ত ভাবছেন যে, কবে মার্কেট পরিস্থিতি ঠিক হবে! বা কখন আমরা গ্রিন সিগন্যাল দেখতে পাবো? অনেকে হয়তো ইতিমধ্যে ভেবে রেখেছেন যে এই পরিস্থিতির মধ্যে কি করবেন। আবার অনেকে বুঝে উঠতে পারছেন না এখন কি করা উচিত! ভাবছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং করে সত্যিই ভুল করে ফেলেছি! এখন হয়তো লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে। না, এরকম ভাবার কোন কারণ নেই।  আজকে সেই সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, সাথে এটা জানবো বিটকয়েন মার্কেট আর কত নিচে নামবে। 


প্রথমত কি কারণে বিটকয়েন মার্কেটে ধস নেমেছে সেটা একটু পর্যালোচনা করি। আমরা ৪টি কারণ খুজে বের করেছি যেগুলো ক্রিপ্টো কারেন্সি মার্কেট ডাউন হওয়ার প্রধান কারণ। যে ৪ কারণে ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউন হয়েছে সেগুলো হলঃ 


বিটকয়েনের দাম কেন কমতে শুরু করেছে? 


কারণ-১


 আপনাকে আগে বুঝতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট গুটি কয়েক জনের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় না। এই মার্কেট নিয়ন্ত্রিত হয় হোয়েলদের দ্বারা। তারা যখন ইচ্ছে তখন মার্কেট ম্যানুপুলেট করে। এটি শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটেই নয় বরং যে সকল বড় বড় মার্কেট দেখতে পাবেন প্রায় সব জায়গায় এরকম হোয়েল বিদ্যমান থাকে। তাদের হাতে মূলত সম্পূর্ণ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ থাকে। এই হোয়েলদের কাউকে আপনি সচারচর দেখে থাকবেন আবার কেউ আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে। আর এদেরকে আমরা ক্রিপ্টো কারেন্সির ভাষায় হোয়েল বলে থাকি। যারা মার্কেট যেকোনো সময় উঠানামা করাতে পারে। তাদের কাছে  বড় বড় হোল্ডিং রয়েছে। তাই যখনই তারা মার্কেট থেকে বের হওয়ার প্ল্যান করে তখন প্রচুর কয়েন মার্কেটে ছেড়ে দেয়। এতে সাপ্লাই বেড়ে যায় আর ডিমান্ড কমে যায়। ফলাফল কয়েনের বাজারে ধস মানে দাম কমতে শুরু করে। আর তখনই তারা আরো কয়েন কম দামে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। 


কারণ-২


বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি বিটকয়েন অবিরতভাবে নিচের দিকে নামছে। যেটা 50 শতাংশ থেকে বেশি নিচে নেমেছে। এর সাথে সাথে অন্যান্য কয়েন যেমনঃ ইথারিয়াম, বিএনবি, ট্রন ইত্যাদি মার্কেট হারাচ্ছে। 

আমরা যদি আরেকটি বিষয়ের দিকে খেয়াল করি সেলসিয়াস নামক একটি প্লাটফর্ম রয়েছে। যেটি মূলত ইথারিয়াম কয়েন এর সাথে সম্পর্কিত। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, মার্কেট হঠাৎ করেই ক্রাশ করেনি। প্রথমে ইথারিয়াম ক্রাশ করেছে তারপর বিটকয়েন এর সাথে অন্যান্য কয়েনগুলোও ক্রাশ করেছে। সেলসিয়াস হচ্ছে একটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট প্লাটফর্ম যেখানে আপনি কয়েন সোয়াফ, একচেঞ্জ করতে পারবেন এছাড়াও কয়েন ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। সেলসিয়াস যেহেতু বিশাল একটি প্লাটফর্ম সেহেতু এখানে ফান্ডিং থাকা স্বাভাবিক। এখন সেলসিয়াস নেটওয়ার্ক তাদের যে ফান্ডিং আছে তা তারা একটা রিস্কি জায়গায় ইনভেস্ট করেছে, যেখানে একটা লিকুইডেশন প্রাইস এর ভয় আছে। এখন তাদের লিকুইডেশন প্রাইস ছিল ২৩ হাজার ডলারে। মানে বিটকয়েন 23 হাজার ডলারের হিট করলে তাদের পুরো ব্যালেন্সটা শূন্য হয়ে যেত। তাই তারা ওইখানে আরো কিছু বিটকয়েন সংযুক্ত করে লিকুইডেশন প্রাইস 18 হাজার ডলারে নিয়ে এসেছে। কারণ 23 হাজার ডলারে বিটকয়েন আগেই হিট করে ফেলেছে। এখানে একটি বড় বিষয় হচ্ছে 18 হাজার ডলারে যদি তাদের ব্যালেন্সটা চলে যায় তাহলে মার্কেটিং আরো বড় ধরনের একটা ইস্যু তৈরি হতে পারে। সেলসিয়াস নেটওয়ার্কের এসব কর্মকাণ্ড দেখে নেক্সো কোম্পানি তাদেরকে একটি টুইট করেছিল, যেখানে তারা বলছে সেলসিয়াস যদি তাদের কাছে এ সমস্যাটি সমাধান করার জন্য অনুরোধ করে তাহলে তারা সমস্যাটি সমাধান করতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেলসিয়াস কোন ধরনের রেসপন্স করেনি।



কারণ-৩


আরেকটা কারণ হচ্ছে লোনা প্রজেক্ট। সম্প্রতি তারা মার্কেটে যে মেনুপুলেশন টা করেছে তার প্রতিক্রিয়া এখনো যায়নি। এটাও একটা কারণ হতে পারে।


কারণ-৪


আরেকটা আমার ব্যাক্তিগত মত,  গত দুই বছরে আমরা করোনা প্যানডেমিক এর মধ্যে ছিলাম আর তখন অনেকেই চাকরি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল বা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল। অনেক কোম্পানিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর এই কারনেই অনেকেই তখন আলাদা একটি ইনকাম এর রাস্তা খুঁজেছিল। সেজন্য অনেকে অনেক জায়গায় তাদের ব্যালেন্সটা ইনভেস্ট করেছে এটা হতে পারে ফরেক্স মার্কেট, ক্রিপ্টো কারেন্সি বা স্টকে। এখন যেহেতু করানা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত হয়েছে তাই অনেকেই চাকরিতে ফিরে গিয়েছে আবার কোম্পানিগুলো নতুন করে তাদের কার্যক্রম চালু করেছে। এখন যারা সাময়িক সময়ের জন্য এখানে ইনভেস্ট করতে এসেছিল তারা কিন্তু এখন দীর্ঘ সময়ের জন্য ইনভেস্ট করবে না। শুধু তাদের প্রফিট আসলেই হল। তাই তারা তাদের কয়েনগুলো মার্কেটে সেল করা শুরু করেছে। এত সাপ্লাই বেড়ে গিয়েছে এবং ডিমান্ড কমে গিয়েছে তাই আমরা এই ডাউন টা দেখতে পাচ্ছি।




এই সমস্যার জন্য শুধু কি ক্রিপ্টো কারেন্সি মার্কেট ডাউন হয়েছে?


উত্তর হবে “না”। আপনি যদি আমেরিকার  স্টক মার্কেটের দিকে তাকান তবে দেখতে পাবেন সেগুলো বড় ধরনের ডাউন হয়েছে। বছরের অন্যান্য সময়ের থেকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মার্কেট ডাউন হয়েছে এই সমস্যার কারণে। শুধু আমেরিকান স্টকে না বরং চায়নার বিভিন্ন স্টকও ডাউন হয়েছে। তার মানে পুরো মার্কেটে ডাউন সেটা হোক ক্রিপ্টো মার্কেট বা ফরেক্স বা স্টক।


বিটকয়েনের দাম কি কখনো জিরো হতে পারে?  

ক্রিপ্টোস্লেটের সাথে একটি সাক্ষাত্কারে, ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসা লিবার্টিরোড ক্যাপিটালের সিইও রাসেল থমসন বলেছেন,

"এখনও বিটকয়েন শূন্যে যাওয়ার সম্ভবনা নেই।" এবং এই মার্কেট বৃদ্ধির জন্য আমাদের আমাদেকেরই পদক্ষেপ নিতে হবে।"

গ্লোবালব্লক-এর ক্রিপ্টো বিশ্লেষক মার্কাস সোটিরিউ বলেছেন,

"ক্রিপ্টো বাজারগুলি আংশিকভাবে ধসে পড়েছে একটি বৃহত্তম লোন প্ল্যাটফর্ম সেলসিয়াসের দেউলিয়াত্বের কারণে, যখন এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়েছে যে তারা গ্রাহক সম্পদের সাথে বেপরোয়া ছিল।"


কখন বিট কয়েন মার্কেট রিকভার করতে পারে?


ক্রিপ্টো মার্কেট এমন একটি জায়গা যেখানে সবচেয়ে বেশি মার্কেট আপ-ডাউন হয়। আপনি যদি দেখেন স্টক মার্কেট 5 শতাংশ ডাউন এর মধ্যে রয়েছে তাহলে ধরে নেবেন ক্রিপ্টো মার্কেট তখন 10 থেকে 20 শতাংশ ডাউনে চলে যাবে। আবার যদি দেখেন স্টক মার্কেট 5% আপ হয়েছে তাহলে ক্রিপ্টো কারেন্সি মার্কেটেও আপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সেটি পরিস্থিতি বেধে ভিন্নতর হয়। এটি এমন একটি মার্কেট যেখানে ডাউন হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে আবার যেকোনো মুহূর্তে আপ হয়ে যেতে পারে।




যারা ইনভেস্ট বা হোল্ড করে রেখেছে তাদের করণীয় কি?


প্রত্যেক সমস্যার সমাধান রয়েছে তাই এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে প্রথমত ধৈর্যধারণ করা। কারণ ক্রিপ্টো মার্কেট এমন এক স্থান যেখানে আপনি ধৈর্য ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না।


আমার মতামত হচ্ছে এরকম পরিস্থিতিতে প্রথমত প্যানিক হবেন না। আপনার কয়েন এখন সেল না করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনি যেহেতু ইনভেস্ট করে ফেলেছেন আর মার্কেট এখন অনেক বড় ডাউনে রয়েছে, তাই এখন যদি বিক্রয় করেন স্বাভাবিকভাবে আপনার ক্ষতি হবে। আর লস না হলেও রিকভার খুবই সামান্য করতে পারবেন। তাই আমি বলবো বিক্রয় না করে একটু ধৈর্য ধরুন। ক্রিপ্টো মার্কেটের একটি কথা প্রচলিত আছে, আপনার কয়েন যতক্ষণ হোল্ড থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার কোন ধরনের লস নেই। আপনি যখনই কয়েন সেল করে দিচ্ছেন তার পর থেকে আপনার লস শুরু। তাই প্যানিক না হয়ে যে কয়েন গুলোতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সেগুলো হোল্ড করে রাখুন।




মার্কেট কিন্তু সব সময় এই জায়গায় থাকবে না। একটা সময় অবশ্যই মার্কেট রিকভার করে আপ হবে। এখন কবে রিকভার করবে এটা কিন্তু কেউ বলতে পারবেনা। আপনি যদি আগের বছরগুলো পর্যালোচনা করেন তাহলে দেখবেন, প্রত্যেক বছর ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাস পর্যন্ত মার্কেট ভালো অবস্থানে থাকে। তারপরে আরও একটা “কী” পয়েন্ট হচ্ছে এই বছরের শেষের দিকে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমার ব্যক্তিগত মতামত যখন থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে বিভিন্ন কোম্পানি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন বাড়িয়ে দিবে আর তখন মার্কেটে ভালো একটা মুভমেন্ট দেখতে পাওয়া যাবে। তাই এখন হচ্ছে ইনভেস্টিং এর সময়। আপনার যদি কোন কয়েন ক্রয় করার থাকে তাহলে ক্রয় করে নিন বা ইনভেস্ট করে নিন কারণ মার্কেট উপরে গেলে তখন তো আর ইনভেস্ট করে লাভ নেই।




বিটকয়েন মার্কেট ডাউন অবস্থায় অন্য কোন কয়েনগুলো গুলো কিনতে পারি?


মার্কেটের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন প্রায় সবগুলো কয়েনে ডাউনে আছে। অর্থাৎ পুরো মার্কেটের অবস্থা খুব খারাপ। যত জনপ্রিয় কয়েন রয়েছে প্রায় সকলের অবস্থা শোষনীয়। তাই এখন সবচেয়ে ভালো সময় কয়েন ক্রয় করার। সেরা 100 তে থাকা যেকোনো কয়েন এখন ক্রয় করে নিতে পারেন কারণ এই কয়েন গুলো সামনে আপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। আপনি ইথেরিয়াম, বিএনবি, কার্ডানো, ট্রন, ইত্যাদি এই কয়েন গুলো ক্রয় করতে পারেন।  বর্তমানে অনেক কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে এগুলো। তাই আমি বলব সেরা 100 বা 50 এর মধ্যে যে কয়েনগুলো আছে সেগুলো থেকে আপনার পছন্দের কয়েনটি ক্রয় করে নিতে পারেন। তবে যেকোনো কয়েন কেনার আগে একটু রিসার্চ করে নিবেন। কোন কয়েন গুলো সম্পর্কে সব সময় আলোচনা হয় বা যে কোয়েনগুলো সব সময় ট্রেন্ডে থাকে সেগুলো কেনার চেষ্টা করবেন। এমন না যে আপনি শুধুমাত্র একটি কয়েনে সব অর্থ ইনভেস্ট করে রাখবেন। যদি লাভের মুখ দেখতে চান তাহলে অবশ্যই ট্রেন্ডে থাকা একাধিক কয়েনে ইনভেস্ট করতে হবে।



লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।❤


No comments